Monday, March 20, 2017

দাঁতের গোড়া ফুলে গেলে


দাঁতের গোড়া ফুলে গেলে

যখন শরীরের কোনো অংশ ফুলে যায়, সাধারণত সেখানে পুঁজ জমা
হয়। এটি অ্যাবসেস বা ফোড়া। ত্বকে যখন ফোড়া হয় তখন অনেক
ক্ষেত্রেই তা পেকে গিয়ে সাদা হয়ে আসে। দাঁতের গোড়ায়ও এই
অ্যাবসেস বা ফোড়া হতে পারে।
সাধারণত আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত কোনো দাঁতের গোড়ায় এই
ফোড়া দেখা যায়। তবে এটা এক দিনে বা হঠাৎ করে হয় না। এর জন্য
অনেক দিন সময় লাগে। সাধারণত দাঁত ক্ষয়রোগ বা ক্যারিজে আক্রান্ত
হওয়ার পরও যথাযথ চিকিৎসা না করলে বা যথাসময়ে চিকিৎসা না করালে,
আঘাতে দাঁতের শিকড় বা শিকড়ের অংশবিশেষ ভেঙে গেলে,
যথাযথভাবে দাঁত পরিষ্কার না করলে এ ধরনের ইনফেকশন হয়।
অ্যাবসেস হলে ওই স্থানটি ফুলে যায়, ব্যথা হয়। কখনো কখনো
ফোলা স্থান থেকে পুঁজও বের হয়।
সাধারণত দাঁতে দুই ধরনের অ্যাবসেস বা ফোড়া দেখা যায়। পেরিএপিকাল
অ্যাবসেস ও পেরিওডন্টাল অ্যাবসেস। পেরিএপিকাল অ্যাবসেসে
দাঁতের শিকড়ের চারপাশে ফুলে যায়, তীব্র ব্যথা হয় এবং দাঁতের চিকিৎসা
(রুট ক্যানাল বা দাঁত তুলে ফেলা ইত্যাদি) না করা পর্যন্ত ইনফেকশন ভালো
হয় না।
অন্যদিকে পেরিওডন্টাল অ্যাবসেস দাঁতের চারপাশে থাকা গাম বা
মাংসপেশির ইনফেকশন। এটি সহজেই চিকিৎসাযোগ্য।
যেভাবে অ্যাবসেস তৈরি হয়
পেরিওডন্টাল অ্যাবসেসের ক্ষেত্রে প্রথমে দাঁত ও মাড়ির মাঝে
খাদ্যকণা জমে। এগুলো পরিষ্কার না করা হলে তা একটা সময়ে পচে যায়।
এ সময় এখানে লাখ লাখ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে। বিভিন্ন প্রজাতির
ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল
করে দেয়। অন্যদিকে পেরিএপিকাল অ্যাবসেস সাধারণত শুরু হয় দাঁতের
ক্যারিজ বা ক্ষয়রোগ থেকে। ক্যারিজ যখন দাঁতের এনামেল ও ডেন্টিন
ক্ষয় করে দন্তমজ্জা বা পাল্পে প্রবেশ করে তখন প্রথমে দাঁতে
ব্যথা হয়। এ সময় ক্যারিজ বা ক্ষয়রোগের কারণ যে ব্যাকটেরিয়াগুলো
তারাও দ্রুত পাল্পে প্রবেশ করে এবং ধীরে ধীরে পাল্প পচিয়ে
ফেলে। এই পচে যাওয়া পাল্প বা পাল্পপুঁজ তখন দাঁতের শিকড়ের
ভেতরে থাকা নালি দিয়ে গোড়ায় চলে যায়। সেখানে থাকা অস্থিকেও
ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে এবং সেখানেও পচন শুরু হয়। দাঁত যেহেতু
হাড়ের ভেতর প্রতিস্থাপিত থাকে, তাই দাঁতের গোড়ায় পচন বা পুঁজ হওয়া
মানে হাড়েও ইনফেকশন ছড়িয়ে যাওয়া। ধীরে ধীরে দাঁতের
গোড়ার চারপাশে থাকা হাড় যখন পচে গিয়ে যখন তা নরম মাংসে আসে
তখনই আমরা ওই স্থানটি ফুলে যেতে দেখি।
যেহেতু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে অ্যাবসেস হয়, তাই উভয় ধরনের
অ্যাবসেসেই ডেন্টাল চিকিৎসা ছাড়াও অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের
প্রয়োজন হয়। তবে পেরিওডন্টাল অ্যাবসেস পেরিএপিকাল
অ্যাবসেসের তুলনায় কম বিপজ্জনক। পেরিএপিকাল অ্যাবসেস যথাসময়ে
চিকিৎসা না করলে, যথাযথ অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ না করলে
আশপাশের স্থানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং লাডউইগ অ্যানজাইনার মতো
কিছু রোগের কারণ হয়। লাডউইগ অ্যানজাইনা এমন একটি রোগ, যেখানে
গলার চারপাশে আকস্মিক পুঁজ জমে ফুলে যায় এবং রোগী নিঃশ্বাস নিতে
পারে না। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে
পারে।
অনেক সময় চিকিৎসক অ্যাবসেস বা ফুলে যাওয়া স্থান থেকে জমে থাকা
পুঁজ বের করে তারপর মূল চিকিৎসায় যান। জমে থাকা পুঁজ বের করলে
ব্যথা কমে আসে। কখনো কখনো কিছু অ্যাবসেস বারবার হয় এবং
অ্যান্টিবায়োটিকেও ভালো হতে চায় না। এসব ক্ষেত্রে ওই
অ্যাবসেস থেকে পুঁজ সংগ্রহ করে তা কালচার পরীক্ষায় পাঠানো হয়।
কালচার পরীক্ষার ফল দেখে পরবর্তী চিকিৎসা দেওয়া হয়।

we take care of your smile.............

Saturday, March 18, 2017

হৃদরোগ সংক্রান্ত কিছু সাধারণ উপদেশ

হৃদরোগ সংক্রান্ত কিছু সাধারণ উপদেশ নীচে দেওয়া হল -
· সকল প্রকার তামাক এবং তামাকজাত দ্রব্য গ্রহন থেকে বিরত থাকুন।
· অতিরিক্ত তেল অথবা চর্বি যুক্ত খাবার গ্রহন থেকে বিরত থাকুন,স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহন করুন।
· আপনার খাদ্য তালিকায় তাজা শাকসব্জি এবং ফল অন্তর্ভুক্ত করুন।
· তরকারিতে পরিমিত লবন খান, খাবারে বাড়তি লবন মিশিয়ে খাওয়া বন্ধ করুন।
· চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার যত সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
· ঘাম ঝরানো শারীরিক পরিশ্রম করুন, হাটার সময় দ্রুত হাটুন। সব সময় লিফট ব্যবহার না করে যতদুর সম্ভব সিড়ি বেয়ে উঠার অভ্যাস করুন।
· উচ্চরক্তচাপ বা হাইপারটেনশন (ব্লাড প্রেসার) এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখুন।
· শরীরের বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করুন।
· রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখুন, লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষাটি করে জেনে নিন আপনার রক্তে কোন ধরনের চর্বি বেশী আছে, সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নিন এবং খাদ্য তালিকা তৈরী করুন।
· যাদের বাবা/মা বা বড় ভাই বোন দের (পারিবারিক) হৃদরোগ আছে তারা অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করুন এবং নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তের চর্বি, ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে নিজের অবস্থান জেনে নিন।
· মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন, মানসিক চাপ হৃদরোগ ঘটায়। সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে দৈনিক নিয়মিত প্রার্থনা করু্ন। সম্ভব হলে মেডিটেশন করে দেখতে পারেন।
· দৈনিক অল্প কিছু সময় শিশু এবং বয়োবৃদ্ধদের সাথে কাটানোর চেষ্টা করুন, বন্ধুদের সাথে প্রানখোলা আড্ডা মানসিক প্রশান্তি আনতে পারে। সব সময় হাসি খুশী থাকবার চেষ্টা করুন।
· দৈনিক পরিমিত নিদ্রা গ্রহন করুন, লক্ষ্য রাখুন আপনার দৈনন্দিন জীবনে যেন যথেষ্ট বিশ্রাম এবং বিনোদনের সূযোগ থাকে।
· ছোট শিশুদের গলা ব্যথা হলে বা বাতজ্বর হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
· করোনারি বা অন্যান্য জটিল হৃদরোগ হবার সুনির্দিষ্ট কোন বয়স নেই, তাই সব বয়সেই হার্টের যন্ত নেবার প্রতি সচেষ্ট হন। সন্দেহ হলে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হোন।

ইশকেমিক (Ischaemic) হার্ট ডিজিজ

হার্ট ব্লক হয়েছে বললেই আমাদের মনে যে রোগটির ছবি ফুটে উঠে তা হলো আসলে ইশকেমিক ডিজিজ। হার্ট ব্লক নামক প্রচলিত শব্দটি কিন্ত এই রোগের ক্ষেত্রে ভুল নামকরণের শিকার, কারণ হার্ট ব্লক নামে সত্যিই একটি হৃদ রোগ আছে যার সাথে এই রোগের মিল খুব সামান্যই। তবে হার্ট এর ধমণী তে ব্লক (করোনারি আরটারী স্টেনোসিস) হয়েছে বললে সেটা কিন্ত এই রোগটিকেই বোঝায়। তাই পাঠক এই ক্ষেত্রে একটু যত্নবান হবেন বলে আশা রাখবো। মেডিকেল পরিভাষায় একে করোনারি আর্টারি ডিজিজ বলা হয়।
ধমণীর ব্লক কীঃ হৃদপিন্ড শরীরের সর্বত্র রক্ত সরবরাহ করে, এই প্রবাহিত রক্তের কাজ খুব সহজ করে বললে হবে সর্বত্র পুষ্টির যোগান দেয়া। হৃদপিন্ডের নিজেরও পুষ্টির প্রয়োজন আছে আর তা আসে মোটামুটি মাঝারী মাপের তিনটি ধমণীর সাহায্যে। এদের নাম যথাক্রমে ডান পাশে আর,সি,এ (রাইট করোনারি আরটারি), মাঝে এল,এ,ডি (লেফট এন্টেরিয়র ডিসেন্ডিং), এবং যেটি হৃদপিন্ড কে ঘুড়ে আসে তার নাম এল,সি,এক্স (লেফট সারকামফ্লেক্স) আরটারি। কোনো কারণে যদি এসব ধমণী সরু হয়ে যায় বা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে করোনারি আরটারীর স্টেনোসিস হয়েছে বা ব্লক হয়েছে শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়। সাধারণত ধমণীর গায়ে চর্বি জমে তা ক্রমান্বয়ে সরু হতে থাকে। এটা যদি শতকরা ৫০ ভাগ এর বেশি হয়ে যায় সেক্ষেত্রে হৃদপিন্ডের রক্ত প্রবাহ মাত্রাতিরিক্ত কমে যেতে থাকে এবং রোগী সামান্য পরিশ্রমেই বুকে ব্যথা অনুভব করতে পারেন।
হার্ট এটাক / এমআই / স্ট্রোকঃ হার্ট এটাক রোগটিকে ভুলবশত স্ট্রোক বলা হয়ে থাকে। স্ট্রোক মস্তিস্কের রক্তক্ষরণ জাতীয় রোগ আর হার্ট এটাক হৃদপিন্ডের একটি রোগ, যার মেডিকেল পরিভাষা হল মায়কার্ডিয়াল ইনফার্কশন, ছোট্ট করে একে বলা হয় এম,আই। হার্ট এর ধমণী গুলো সরু হয়ে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে রক্ত প্রবাহ আশংকা জনক হারে কমে যায় এবং হার্টের কোষ গুলো মৃত্যু বা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়- এর ই নাম ইশকেমিয়া। কেতাবী নাম মায়কার্ডিয়াল ইশকেমিয়া। ইশকেমিয়া হলে বুকে তীব্র চাপ ও ব্যাথা অনুভুত হয় তখন এই সমস্যাটিকে বলে এনজাইনা পেক্টোরিস। এনজাইনা শব্দের বাংলা অর্থ ব্যাথা আর পেক্টরিস এর অর্থ বুক। যদি ইশকেমিয়া চলতেই থাকে তবে হার্ট এর কোষ গুলো একসময় মারা যায়, এই অবস্থাটির নামই মায়কার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা এম,আই- যা আমরা প্রচলিত অর্থে হার্ট এটাক হিসেবে চিনি।
লক্ষনঃ ইশকেমিয়া হলে রোগীর বুকের বাম দিকে প্রচন্ড ব্যাথা বা এনজাইনা হয় এবং রোগী বুকে তীব্র চাপ অনুভব করে। অনেক রোগীই অভিযোগ করে যে তার বুকের উপর ভীষন ভারী একটা কিছু চেপে বসে আছে। ব্যাথার তীব্রতা বুকে বেশী থাকলেও এটা বুক থেকে গলা, গাল, মাড়ি, কান, বাম হাত এবং আশে পাশে ছড়িয়ে পরতে পারে। একে রেফার্ড পেইন বলা হয়। বুকের ব্যাথা ১ থেকে ৩ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, তবে এটা কখনই ৩০ সেকেন্ড সময়ের কম দৈর্ঘের হয়না। আবার ১৫ মিনিটের বেশী স্থায়ী হওয়ার নজিরও খুব কম। এনজাইনা বা ব্যাথা শুরু হয় সাধারণত কোনো একটা পরিশ্রমের কাজ করার সময় যেমন দৌড়ানো বা জোরে হাটা ইত্যাদি। তবে পেট ভরে খাবার খাওয়া, যৌন ক্রিয়া এমনকি হঠাৎ রেগে যাওয়া বা উত্তেজিত হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ও এনজাইনা শুরু হয়ে যেতে পারে। ব্যাথার সাথে রোগীর অন্য উপসর্গ যেমন শ্বাসকষ্ট, পেট ফাপা লাগা, অস্থির লাগা, বুক ধড়ফর করা ইত্যাদিও থাকতে পারে। পরিশ্রম বন্ধ করে বিশ্রাম নিলে এই ব্যথা সাথে সাথে সাময়িক ভাবে কমে যেতে পারে।
রোগ নির্ণয়ঃ বুকের ব্যাথার কারণ হিসেবে এনজাইনা বা এম,আই সন্দেহ হলে প্রথম যে পরীক্ষাটি করা হয় তা হলো একটি ১২ লিডের ইসিজি। ব্যাথার শুরুর দিকে ইসিজি স্বাভাবিক ও আসতে পারে, এজন্য পর্যায়ক্রমে বেশ কয়েকবার ইসিজি করা লাগতে পারে। এর পর ও যদি ইসিজি স্বাভাবিক আসে এবং এনজাইনা হবার সন্দেহ থাকে সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হার্ট এর এনজাইম এর মাত্রা দেখে এই রোগ নিশ্চিত করেন। প্রধানত ট্রপনিন আই এবং সি,কে,এম,বি এনজাইম দুটো দেখা হয়, এছাড়া অন্য এনজাইম ও দেখার প্রয়োজন হতে পারে। এনজাইনা বা এম,আই এর কারণ জানার চুড়ান্ত পরীক্ষা হলো এনজিওগ্রাম করা। সিটি স্ক্যান করে (সিটি এনজিওগ্রাম) অথবা পা কিংবা হাতের ধমনীতে বিশেষ ধরনের ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে- দুভাবেই এনজিওগ্রাম করা যায়। তবে শেষের পদ্ধতিই বেশী কার্যকর। কোনো কোনো রোগী আছেন যাদের মাঝে মাঝে কাজের মধ্যে বুকে ব্যাথা হয় কিন্ত স্বাভাবিক অবস্থায় হয়না এবং ইসিজি করলেও ধরা পড়েনা তাদের ক্ষেত্রে স্ট্রেস টেস্ট বা ইটিটি পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করতে হয়।
চিকিৎসাঃ করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ এর চিকিৎসা অবশ্যই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (কার্ডিওলজিস্ট) এর তত্ত্বাবধানে করা উচিত। এর কোনো বিকল্প নেই। কারণ কেবল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞই রোগীর সঠিক অবস্থা বিবেচনা করে আদর্শ চিকিৎসা দিতে পারেন। সহজ করে বললে এনজাইনা জাতীয় রোগে তারা প্রথমেই যে ঔষুধ গুলো দিয়ে থাকেন তার মধ্যে একটি হলো নাইট্রোগ্লিসারিন যা স্প্রে করে, শিরায় অথবা ট্যাবলেট হিসেবেও দেয়া হয়। এছাড়াও রক্তের প্লাটেলেট বিরোধী এসপিরিন বা ক্লোপিডোগ্রেল, উচ্চরক্ত চাপ নিয়ন্ত্রনের অসুধ, মরফিন জাতীয় শক্তিশালী ব্যাথা নাশক এবং রক্ত তরলকারি হেপারিন বা ইনোক্সাপারিন ও দেয়া হয়। কার্ডিওলজিস্ট অনেক সময় রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে রক্ত তরলকারি ইনজেকশন স্ট্রেপটোকাইনেজ বা এল্টেপ্ল্যাজ জাতীয় অসুধ ও ব্যবহার করে থাকেন। তবে ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ এর চুড়ান্ত চিকিৎসা হলো প্রথমে এনজিওগ্রাম করে কোন ধমনীতে স্টেনোসিস আছে তা নির্ণয় করা এবং সেই অনুযায়ী এনজিওপ্লাস্টি করা বা ব্লক সরিয়ে সে স্থানে স্টেন্ট বসিয়ে দেয়া(যা প্রচলিত আছে রিং পরানো নামে)। অনেক সময়ই স্টেন্ট বসানো সম্ভব হয়না অথবা যৌক্তিক হয়না সেক্ষেত্রে অবশ্যই সিএবিজি বা বাইপাস অপারেশন (প্রকৃত নাম CABG- Coronary Artery Bypass Graft) করে রোগীর স্থায়ী রোগ মুক্তি ঘটান হয়।

সাইনুসাইটিস (Sinusitis)

মুখমন্ডল ও মস্তিস্কের হাড়কে হাল্কা করার সুবিধার্তে এর ভেতরে কিছু বায়ুকুঠুরি আছে যার নাম সাইনাস (Sinus)আর এর প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন এর জন্য যেই রোগটি হয় তাই আমাদের অতিপরিচিত সাইনুসাইটিস(Sinusitis)
মাথার হাড়ে এমন চারটি সাইনাস রয়েছেএর মধ্যে ম্যাকজিলারি ওফ্রন্টাল সাইনাস দুটি বড় তাই রোগ ও এতে বেশী হয়। এরা নাকের গর্তে গিয়ে শেষ হয়। মাথার হাড়ের ওজন কমানো ছাড়াও মানুষের মুখের শব্দকে ভারী এবং কিছুটা নাসিকাময় করায় এদের ভূমিকা আছে।
সাধারণত ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমনেই সাইনুসাইটিস হয়ে থাকে। তবে নাকে আঘাত পাওয়াএলার্জিঠান্ডা লাগাধুলাবালুনাকের হাড় বাকা হয়ে যাওয়ানাকে টিউমার হওয়া নানাবিধ কারন গুলো এ রোগের প্রকোপ অনেকগুনে বাড়িয়ে তোলে।
নাক দিয়ে অবিরত পানি পরা বা হটাৎ করে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়াটা সাইনুসাইটিস রোগের একদমই পরিচিত একটি উপসর্গ। সেই সাথে তীব্র-দীর্ঘ ও বিরক্তিকর মাথা ব্যথা তো রয়েছেই, সাইনাস গুলোর ঠিক উপরেও একটা চাপা ব্যথা থাকে। মাথা ভারী ভারী লাগা ও সবকিছু খাবারের স্বাদ নষ্ট হয়ে যাওয়া এরোগটিকে নানাভাবে তীব্র অস্বস্তিকর একটি রোগে পরিনত করে। অনেক সময় এর সাথে জর, গা ম্যাজ ম্যাজ করা এবং মানসিক অবসাদ যোগ হয়ে রোগীকে ভীত করে তোলে।
অনেকের এই রোগটি বছরে কয়েকবার হয়ে থাকে, বিশেষ করে যারা বিভিন্ন এলার্জিতে ভোগেন, তাই এরোগ এড়াতে ঐসব ব্যাপারে বিশেষ সাবধান হওয়া আবশ্যক। শুষ্ক, খোলামেলা এবং যথেষ্ট আলো বাতাস আছে এমন ঘরে বসবাস সাইনুসাইটিসের সম্ভাবনা অনেকাংশে হ্রাস করে।
এতো কিছুর পরও যদি এরোগ হয়েই যায় তাহলে নাক,কান,গলা বিশেষজ্ঞের স্মরণাপন্ন হতে হবে। প্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিকহিস্টাসিন জাতীয় কিছু অসুধ এবং প্যারাসিটামল এরোগে বেশ কার্যকারিতার দাবী রাখে। সেই সাথে নাকে বাষ্পের ভাপ নেয়াপুষ্টিকর ও ভিটামিনযুক্ত খাবার খাওয়া এবং বিশ্রাম নেয়া এরোগে বেশ আরাম দেয়। 

থাইরোগ্লোসাল সিস্ট (Thyroglossal Cyst)

থাইরোগ্লোসাল সিস্ট হলে গলার ঠিক মাঝ বরাবর ছোট্ট একটি অংশ ফুলে থাকে। আসলে এই ফুলে থাকা অংশটিই হলো সিস্ট। এর ভেতরে পানির মতো তরল থাকে। সাধারনত শিশুদের জন্মের পরে এই সমস্যাটি দেখা দিতে পারে তবে পরিণত বয়সেও এটি দেখা দিতে পারে। এটা আসলে একটি জন্মগত ত্রুটি, থাইরয়েড হরমোন গ্রন্থিটির নিচে নামার পথটি রয়ে গেলেই এই সমস্যা দেখা দেয়। শিশু ঢোক গেলার সময় বা জিহবা বের করলে এই সিস্টটি গলার সামান্য উপরের দিকে উঠে আসে, এটা দেখেই চিকিৎসকেরা এই রোগটি সনাক্ত করে থাকেন। এটির একমাত্র চিকিৎসা হলো অপারেশন করে সিস্ট টি ফেলে দেয়া। এই অপারেশনের নাম সিস্ট্রাঙ্ক অপারেশন। শিশু সার্জন বা নাক কান গলা সার্জন উভয়েই এই অপারেশন করতে অভিজ্ঞ বলে ধরে নেয়া হয়।

টনসিলাইটিস (Tonsillitis)

বাচ্চাদের গলায় ব্যথা হলেই আমরা বলে দেই - "তোমার তো টনসিল হয়েছে"। অমনিই জোটে এটা খাবেনা, ওটা করবেনা এমন একগাদা উপদেশ। তো এই টনসিল টা কী? টনসিল হলো আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটা অংশ এবং আমাদের মুখের ভেতরেই চারটি গ্রুপে তারা অবস্থান করে। এদের নাম যথাক্রমে লিঙ্গুয়াল, প্যালাটাইন, টিউবাল এবং এডেনয়েড। এই টনসিল গুলোর কোনো একটির প্রদাহ হলেই তাকে বলে টনসিলাইটিস। টনসিল বলতে আমরা সচরাচর যা বুঝি তা কিন্ত আসলে টনসিলাইটিস। আর প্যালাটাইন টনসিলটিই প্রদাহ সৃষ্টি করে আমাদের গলা ব্যথা জাতীয় সমস্যায় ফেলে সবচেয়ে বেশী।
টনসিলাইটিস যে শুধু বাচ্চাদের হয় তা নয় এটা বাচ্চাদের বেশী হলেও যে কোনো বয়সেই হতে পারে। এ রোগটি হলে গলা ব্যথা হয়, সেই সাথে তীব্র জর ও থাকে, বাচ্চারা কিছু খেতে চায়না, গলার স্বর পরিবর্তিত হয়ে কিছুটা ভারী হয়ে যায়, সেই সাথে মুখে দুর্গন্ধ, গা ম্যাজ ম্যাজ করা, মাথা ব্যথা, কানে ব্যথা থেকে কোষ্ঠ কাঠিন্য পর্যন্ত হতে দেখা যায়। অনেক সময় গলার বাইরের দিকে দুপাশে বড়ই বিচির মতো দুটি দানা ফুলে উঠতেও দেখা যায়, অনেকে এগুলোকে টনসিল মনে করলেও এরা কিন্ত টনসিল নয়। রোগী বড় করে মুখ হা করলে ভেতরের দিকে যে দুটি বড় দানার মতো দেখা যায় তাই হলো টনসিলাইটিস এ আক্রান্ত টনসিল।
টনসিলাইটিস হলে রোগীকে বিশ্রামে থাকতে হয়। প্যারাসিটামল জাতীয় অসুধ এর ব্যথা ও জ্বর নিবারনে কার্যকরি ভূমিকা রাখে। হাল্কা কুসুম গরম পানিতে সামান্য এন্টিসেপ্টিক বা লবন মিশিয়ে গড়গড়া করলে রোগী আরাম বোধ করে। অনেক রোগীকেই আদা ও লেবু দিয়ে তৈরী র চা (Raw Tea) পান করলে স্বস্তি বোধ করতে দেখা যায়। ভিটামিন সি ও এই রোগের উপশমে অবদান রাখে। নাক কান ও গলা বিশেষজ্ঞগন এর চিকিৎসায় সবচেয়ে পারদর্শী। তারা এ রোগের জন্য ৫ থেকে ৭ দিনের এন্টিবায়োটিকের কোর্স দিয়ে থাকেন যা গ্রহনে অধিকাংশ রোগীই দ্রুত সুস্থ হয়ে যায়। তবে কারো যদি বার বার টনসিলাইটিস হয় বা এর জন্য অন্য কোনো জটিলতার সৃষ্টি হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে টনসিল কেটে ফেলে দিতে হয়, একে টনসিলেকটমি অপারেশন বলে।
টনসিলেকটমি অপারেশন করিয়ে নিলে কারো আর টনসিলাইটিস হবার কোনো সম্ভাবনা থাকেনা। তাই যারা টনসিল এর সমস্যার জন্য বারবার বিপর্যস্ত হতে চাননা তারা এই স্থায়ী সমাধানের ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এডেনয়েড (Adenoid)

এডেনয়েড একধরনের টনসিল, এর অবস্থান নাকের গভীরে একদম পেছনের দিকে গলার উপরিভাগে। এর প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন হলে এটা বড় হয়ে যায় এবং নানাবিধ সমস্যা ও উপসর্গের আবির্ভাব ঘটে। বাচ্চাদের এডেনয়েড বড় হয়ে গেলে তাদের শ্বাসকষ্ট হয় এবং তাদের নাকের বদলে মুখ (Mouth breather) দিয়ে শ্বাস নিতে দেখা যায়। এজন্য বাচ্চারা খেতে চায়না এবং তাদের স্বাস্থ্য খারাপ থাকে। এডেনয়েড বড় হলে গলার স্বর পরিবর্তিত হতে পারে এবং বাচ্চা কানে কম শোনা শুরু করে। এ ধরনের শিশুদের কানপাকা (Otitis Media) রোগ হবারও সুযোগ থাকে। অনেকদিন ধরে এ রোগে ভূগতে থাকলে এক সময় শিশুটির মুখ দিয়ে সবসময় লালা ঝরে পরতে থাকে(Drooling)। দাঁত উচু নিচু হয়ে যাওয়া, নাক বোঁচা হয়ে যাওয়া, চেহারা বোকা বোকা হয়ে যাওয়া, রাত্রে বিছানায় প্রসাব করে দেয়া (Enuresis) এসব উপসর্গও কালক্রমে একসময় শিশুটির কষ্টের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
নাক কান গলা বিশেষজ্ঞগণের তত্ত্বাবধানে এই রোগের চিকিৎসা করানো উচিত। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করালে এন্টিবায়োটিক, নাকের ড্রপ ও হিস্টাসিন জাতীয় অসুধ সেবনে এই রোগ নিয়ন্ত্রনে থাকে। সেই সাথে শ্বাসের কিছু ব্যয়াম করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, খোলামেলা পরিবেশে থাকা ইত্যাদি বিষয় গুলোও রোগীকে সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করে। এডেনয়েড খুব বড় হয়ে গেলে অপারেশন(Adenoidectomy) করানো ছাড়া এটা ভালো হয়না। যে সকল শিশুর এডেনয়েড বড় হবার কারনে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয় বা শ্বাস কষ্ট হয় তাদের ক্ষেত্রে অপারেশন করিয়ে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে